রোহিঙ্গা সংকট: শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বললেন আন্তোনিও গুতেরেস

রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭ (১৪:৩২)
রোহিঙ্গা-সংকট-শেখ-হাসিনার-সঙ্গে-ফোনে-কথা-বললেন-আন্তোনিও-গুতেরেস

রোহিঙ্গা সংকট: শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বললেন আন্তোনিও গুতেরেস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম।

তিনি বলেন, আন্তোনিও গুতেরেস ও শেখ হাসিনা টেলিফোনে প্রায় ২০ মিনিট রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশ নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব উদ্বেগ জানিয়েছেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও অন্যান্য সেবা দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে স্বভূমিতে পুনর্বাসনের জন্য মিয়ানমারের উপর আরও চাপ প্রয়োগের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকটের অবসানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর তুলে ধরা পাঁচ দফা প্রস্তাব যাতে বাস্তবায়িত হয় সেজন্য গুতেরেসের সমর্থন চান তিনি।

ফোনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আমি পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলাম।

গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণে মিয়ানমারে উৎপীড়নের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় প্রস্তাব তুলে ধরে মানবিক এই সঙ্কট অবসানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ত্বরিত পদক্ষেপ চান শেখ হাসিনা।

পাঁচদফা:

অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা, অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করা, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা, রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূলের’ চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে কয়েক দফায় মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া বক্তব্যে গুতেরেস বলেন, রাখাইনে সহিংসতা রোহিঙ্গাদের খুব দ্রুতই বিশ্বের বড় উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে, যা মানবিকতা ও মানবাধিকারের জন্য ‘দুঃস্বপ্নের’ জন্ম দিয়েছে। পালিয়ে আসা, যাদের বেশিরভাগ নারী, শিশু ও বয়স্ক, তাদের কাছ থেকে আমরা রক্ত হিম করা বক্তব্য পেয়েছি। তাদের বর্ণনায় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, বেসামরিকদের বিরুদ্ধে ভূমি মাইন ব্যবহার ও যৌন সহিংসতাসহ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকারের গুরুতর লংঘনের কথা উঠে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, এই সংকটের সমাধান না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ পুরো অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি হবে।

দশকের পর দশক শোষণ-বৈষম্যের শিকার হওয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে চরমপন্থার উত্থান ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

প্রেস সচিব জানান, টেলিফোন করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তার সমর্থন ও অব্যাহত তৎপরতা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নিজ ভূমিতে যাতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য উপায় বের করতে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

গুতেরেসকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি খুব ভালোভাবে জানেন যে, সমস্যার মূল মিয়ানমারে এবং সেখানেই এই সংকটের সমাধান পাওয়া যাবে।

রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে (গুতেরেস) অবহিত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই নিউইয়র্ক সফর করবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমাধান খুঁজতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও মিয়ানমারে পাঠাচ্ছি।

এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণে ধারাবাহিক তৎপরতার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের স্রোত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং মিয়ানমারে তাদের প্রতি সহিংসতা এখনও বন্ধ হয়নি। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা ইতোমধ্যে ছয় লাখ ছাড়িয়েছে, যাতে সব মিলিয়ে তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখে।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের জনগণ জাতিসংঘের সব সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে সংকট মোকাবেলা করছে।

বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে আইওএম, ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, ডব্লিউএইচও, এফএও, ইউএন ওমেন, ইউএনডিপি ও অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে: ওবায়দুল

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান

রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি সই

দেশে স্বৈরশাসনের কবলে থাকায় দুর্নীতি শেকড় গেড়েছে: শেখ হাসিনা